নিজস্ব প্রতিবেদকচট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানাধীন ঝাউতলা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিক মোহাম্মদ রুবেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রুবেল খুলশী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
আহত সাংবাদিক মো. রুবেল দৈনিক একুশে সংবাদ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার বিবরণ
চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানাধীন ঝাউতলা এলাকায় প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে আসছিলো হোসেন ও জসিম দুই ভাই। উক্ত বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ জানালে উক্ত বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ রুবেল নামে এক সাংবাদিকের উপর গতরাতে হামলা চালায়। আহত সাংবাদিক দৈনিক একুশে সংবাদ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)–এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর তিনি খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে রুবেল ঝাউতলা বাজার রোড দিয়ে বাসায় ফেরার সময় অভিযুক্ত হোসেন রাস্তা আটকে ‘ঝলক ক্লাব’–এর পাশের অন্ধকার গলিতে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং পরে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারি জসিম (প্রকাশ গাঁজা জসিম) রুবেলের মাথা ও শরীরে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারে। অভিযুক্ত হোসেন এ সময় সাংবাদিক রুবেলের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
রুবেলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলেন, “এইবার বেঁচে গেলি, পরে তোকে ট্রাক দিয়ে এক্সিডেন্ট করায়া মাইরা ফেলুম।”
এ বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব হোসেন বলেন,
“ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করছি। অভিযোগ নিশ্চিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সাংবাদিক মো. রুবেলের উপর হামলার ঘটনায় ‘ঢাকা প্রেসক্লাব’ বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি (বিএসসি), বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমএসইউ), **চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)**সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” “দেশজুড়ে সাংবাদিকরা ক্রমাগত হুমকি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকারের উচিত দ্রুত ‘সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, অন্যথায় আমরা দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে যাব।” মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। একজন সাংবাদিক সত্য প্রকাশে সোচ্চার হলে তাকে ভয়ভীতি ও হামলার মাধ্যমে দমন করার প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সাংবাদিক রুবেলের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।