সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া সামাজিক সংগঠন সেবক-এর আয়োজনে আজ সকাল ১০টায় উত্তরা ডন বস্কো স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো “জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম”।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন করেন সেবক সংগঠনের সম্মানিত সিনিয়র উপদেষ্টা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডন বস্কো স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লস্কর নাহার।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন সেবক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর আলম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান মোঃ বাবুল।
প্রোগ্রামের মূল আকর্ষণ ছিল কোমলমতি শিশুদের রোড সেফটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, যা পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রশিক্ষক কাজী আতাহিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, “দেশ ও মানুষের কল্যাণে সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সেবক সংগঠন গত ৮ বছরে ৮০০০ হাজারেরও বেশি মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, কোমলমতি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই রোড সেফটি বিষয়ে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই শিশুরাই আগামী দিনে গাড়ির মালিক, যাত্রী অথবা চালক হবে। এখন থেকেই যদি তাদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের নিয়ম-কানুন শেখানো যায়, তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে নিরাপদ ও সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত।”
অধ্যক্ষ লস্কর নাহার বলেন, “সেবক সংগঠন নিজস্ব অর্থায়নে যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে, আমি এবং আমার স্কুলের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের প্রোগ্রাম বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রয়োজন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ প্রোগ্রাম।”
সেবকের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, “সেবক একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও মানুষের কল্যাণের কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সরকার ও দেশের সকল স্তরের মানুষ এগিয়ে এলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো কেবল সময়ের ব্যাপার।”
সেবক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান মোঃ বাবুল বলেন, “এটি একটি পাইলট প্রকল্প। আমরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০টি স্কুলে প্রোগ্রাম করব। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে রোড সেফটি শিক্ষা কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুল এবং প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সেবকের মডিউল দ্বারা কোমলমতি শিশুদের রোড সেফটি শিক্ষা প্রদান করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেকটা কমে যাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
শেষে, সেবক সংগঠনের এই মহতী উদ্যোগকে সহযোগিতা করার জন্য এ.এইচ. খান এন্ড কোম্পানি, নাইশা এন্টারপ্রাইজ এবং ডন বস্কো স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।