গাজীপুর প্রতিনিধিএকটি শান্ত, ধর্মপ্রাণ পরিবারের স্বাভাবিক জীবন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী ফারিহাকে তার বাবার সামনে থেকেই দুই দফা তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ফারিহা একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। তার বাবা স্থানীয় মসজিদের ইমাম। পরিবার সূত্রে জানা যায়, এলাকার ২১ বছর বয়সী আবিদ দীর্ঘদিন ধরে ফারিহাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একাধিকবার সতর্ক করার পরও সে বিরত হয়নি, বরং সরাসরি অপহরণের হুমকিও দিয়েছিল।
গত ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে আবিদ ও তার সহযোগীরা ফারিহাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের চাপে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও সেখানেই শেষ হয়নি দুঃস্বপ্ন।
ফেরত দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় বসে স্থানীয় সালিশ। অভিযোগ রয়েছে, ওই সালিশে আবিদ ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র লোক নিয়ে হাজির হয়। তারা জোরপূর্বক বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় ফারিহার বাবার সামনেই তাকে টেনে-হিঁচড়ে আবার তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফারিহার বাবার ভাষায়,
“ওরা মাথা ও গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল। আমি কিছুই করতে পারিনি।”
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা **৯৯৯**-এ ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ইতোমধ্যে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও এখনো ফারিহার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এসআই ফোন রিসিভ করছেন না এবং তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে একজন যুবক প্রকাশ্যে, দিনের আলোয়, এত বড় সাহস পায় যে একটি পরিবারের ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে যেতে পারে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়া এবং পূর্বের হুমকিকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
ফারিহার পরিবারের একটাই দাবি—
**“আমাদের মেয়েকে জীবিত ফিরিয়ে দিন এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।